বিশ্বচোর আমেরিকার অর্থনৈতিক সাফল্যের আসল রহস্য, পর্ব ০১

আমেরিকা আপনার আমার এবং সারা পৃথিবীর মানুষের কাছ থেকে টাকা চুরির এই কাজটি করে তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই তিনটি পদ্ধতি সারা পৃথিবী ব্যাপী চালু রাখার জন্যই আমেরিকার এই যুদ্ধ। কিন্তু এই যুদ্ধগোলা মিথ্যা গণতন্ত্র (শয়তানের তন্ত্রমন্ত্র), মানবাধিকার (শয়তানী কার্যকলাপের অধিকার), শান্তি স্থাপনের মোড়কে সুন্দর করে ডাকা। 

USA,Economy,Geopolitics,Country Info,America,Democray,Latest,US Dollar

পদ্ধতি ৩টি হচ্ছে -

১. মার্কিন ডলারকে স্বর্ণের বিপরীতে ব্যাবহার করা। স্বর্ণের দাম নির্দিষ্ট করে না দেয়া ও মার্কেটের চাহিদার উপরে স্বর্ণের দাম ছেড়ে দেওয়াঃ

টাকার মান কমছে আর ডলারের দাম বাড়ছেই কারনটা কী ? ইউরোপের ভূলের কারনে ১৯৭১ সালে সমগ্র দুনিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হয়ে যায়। পরিবর্তনটি করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট "রিচার্ড নিক্সন" এই অপকর্মটি করেন বলে এটাকে বলে ‘নিক্সন শক’১। মানে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন সারা বিশ্বকে একটা ইলেকট্রিক শক দেন সারা বিশ্বকে। আপনার সম্পদ কিভাবে টাকায় পরিণত হল তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? টাকা তো কিছু স্পেশালি প্রিন্ট করা কাগজ তাইনা? সরকার যদি ইচ্ছেমতন টাকা প্রিন্ট করে তাহলেই কি সম্পদের মূল পরিমাণ বেড়ে যায়? কখনো ভেবে দেখেছি আমরা? তাহলে তো দুনিয়ার সব সরকারই কোন কাজ কর্ম না করে শুধু টাকাই প্রিন্ট করতো, তাইনা?

প্রকৃতপক্ষে আপনি ইন্ডাষ্ট্রিতে যা উৎপাদন করেন এবং যেই ফসল-ফলাদি উৎপন্ন করেন সেটাই হল আপনার প্রকৃত সম্পদ। সেই প্রকৃত সম্পদের সমতুল্য টাকা প্রিন্ট করা হয়, এর বেশী প্রিন্ট করলে জিনিসের দাম বেড়ে ইনফ্লেইশন হবে, মোট সম্পদ কখনো বাড়বে না। তবে আস্তে আস্তে একটু একটু করে টাকা প্রিন্ট করে বাজারে ছেড়ে দিলে কিন্তু মানুষ ইনফ্লেইশনটা টের পায় না যদি ইনফ্লেইশন হয়ে থাকেও। এবং সম্পদ উৎপাদন যদি টাকার প্রিন্ট করার হার থেকে বেশী হয়, তাহলে কিন্তু ইনফ্লেইশন না হয়ে ডিফ্লেইশন হবে (মানে জিনিসপত্রের দাম কমবে)।
.
প্রথমে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হত স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র – এসব ধাতুর মুদ্রা। এসব ধাতু ব্যবহারের সুবিধা হল এসব ধাতুর নিজস্ব একটা বাজার মূল্য আছে, প্রিন্টেট টাকার মতন এটা ইচ্ছেমতন প্রিন্ট করা যায় না বরং খনি থেকে তুলে বাজারে ছাড়তে হয়। তবে এসব মুদ্রা বহন করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় একসময় ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলো স্বর্ণমুদ্রাকে ব্যাংকে জমা রেখে স্বর্ণমুদ্রার ইক্যুইভ্যালেন্ট ‘প্রিন্ট করা টাকা’ বাজারে ছাড়তে লাগলো। নিয়ম করা হল যে যখন তখন ইচ্ছে করলে প্রিন্ট করা টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে স্বর্ণ ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া যাবে। তার মানে তখন পর্যন্ত ‘প্রিন্ট করা টাকা’ হল স্বর্ণের রিসিট। [তবে তারা একটু চালাকি করলো, যতটুকু স্বর্ণ জমা থেকে তার প্রায় দশ গুন টাকা বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করলো (এক্ষেত্রে রিজার্ভ রেশিয়ো হয় ১০%)। কারণ সব মানুষ কিন্তু একসাথে ব্যাংকে গিয়ে টাকাকে স্বর্ণে রুপান্তর করেনা।]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সব ইউরোপিয়ান নেশন গুলো তাদের স্বর্ণগুলো নির্দিষ্ট ডলার রেইটে (এক আউন্স = ৩৫ ডলার এই রে্টে ) আমেরিকায় জমা রাখলো, আর আমেরিকার সাথে চুক্তি করলো যে যখনই তাদের দরকার হবে আমেরিকাকে প্রিন্টেড কারেন্সি দিবে, বিনিময়ে আমেরিকা গোল্ড ফিরত দিবে। (ওরা হয়ত ভয় পাচ্ছিল, হিটলার ইউরোপ দখল করে ফেললে সব স্বর্ণ হিটলারের হস্তগত হবে।) এই ব্যবস্থার নাম ছিল ‘ব্রিটন উডস সিস্টেম’২, এটা ৪৪ টি ইউরোপীয় দেশের সাথে আমেরিকার একটা অর্থনৈতিক চুক্তি। সবাই আমেরিকান ডলার কমন কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করে, কারণ গোল্ড ভল্টে রাখা অনিরাপদ।

এখন আমেরিকা হল অতিচালাক। তারা দেখলো তারা ইচ্ছা করলে এই গোল্ড ব্যবস্থাটা উঠিয়ে দিয়ে সারা দুনিয়াকে ডলার খাওয়াতে পারে। তাই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন ১৯৭১ সালে ঘোষণা করলো তারা আর ব্রিটন উডস সিস্টেম মানবে না, তারা নির্দিষ্ট কোন ডলার রেটে স্বর্ণ বেচাকেনা করবে না। স্বর্ণের দাম হবে অনির্দিষ্ট। মানে মার্কেট অটোমেটিকালী স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করবে। সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ডলার হয়ে গেলে ভাসমান মুদ্রা, এর এখন থেকে গোল্ডের উপর কোন ডিপেন্ডেন্সি নাই। ডলার আজ থেকে স্বর্ণ হতে স্বাধীনতা পেল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতে শক খাওয়ার কি আছে আসলে? ডলার গোল্ড থেকে মুক্ত হলে বাংলাদেশে বসে আমার অসুবিধা কি? শুধু অসুবিধা না, ব্যাপক অসুবিধা। অ- আমেরিকান সবারই ব্যাপক অসুবিধা, আর আমেরিকান সবারই ব্যাপক সুবিধা। কারণ, সব দেশকে ফরেইন রিজার্ভ আগে রাখতে হতো গোল্ডে। এখন সবাই রাখে ডলারে। গোল্ড থাকে আমেরিকায়। আমাদের ভল্টে থাকে শুধুই ডলার, যাহা কাগজ ছাড়া কিছুই নহে। 

এখন মনে করেন বাংলাদেশে ফরেইন রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলার। এই ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রকৃত মূল্য মনে করেন ২২ টন গোল্ড (ধরে নেন আরকি)। এখন, আমেরিকা করেকি, নিজেদের যুদ্ধ পরিচালনা স্ংক্রান্ত ব্যয়, ইন্টারনাল ক্রাইসিস এগুলা সামাল দেয়ার জন্য কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ছাপায়, এরপর এই ডলার সারাদুনিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ডলার ছাপানোয়, ডলারের মান কমে যায়, ব্যাপক ইনফ্লেইশন হয়। ফলে মনে করেন, মাত্র দশ মাসের মধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলারের মূল্য কমে মাত্র ১১ টন গোল্ড হয়ে যেতে পারে। মানে অন্য কথায়, যেকোন পণ্যের দাম ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে প্রায় দ্বিগুন হয়ে যাতে পারে। মানে আপনার জমাকৃত অর্থের মূল্য ডেঞ্জারাসলি কমে যেতে পারে। এবং তা কমছেও।

আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ডলার প্রিন্ট করে নিজেদের ধার দেনা শোধ করছে, নিজেদের মার্কেট টেনে টুনে সেইভ করছে, এবং সাথে সাথে সারা দুনিয়াই আমেরিকার যুদ্ধ এবং অন্যান্য ব্যয়ভার ইনডিরেক্টলি বহন করছে। তার মানে আপনার চাকরি-ব্যবসাকৃত অর্জিত সম্পদ কে ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে কিছু লোক ডলার প্রিন্ট করার মাধ্যমে কমিয়ে দিচ্ছে। বা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। সারা দুনিয়ার কিছুই করার নেই, শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। আসলে এইটাই দুনিয়ার সবচে’ বড় চৌর্যবৃত্তি। আপনার যে মাসের বেতনে পেট চলেনা, তার কারণ হল আমেরিকানদের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে কিছু লোকের ডলার প্রিন্ট করা, বুঝা গেল? আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক (সব প্রাইভেট ব্যাংকারদের এসোসিয়েশণ) বারাক ওবামার অনুমতি ক্রমে ব্যাংকগুলোকে সেইভ করার জন্য যখনই এক ট্রিলিয়ন ডলার প্রিন্ট করার সিদ্ধান্ত নিল, তখনই বুঝবেন, আসলে ওরা আপনার পকেট (আসলে সারাদুনিয়ার সকল মানুষের পকেট থেকে) থেকে এই টাকা টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মাহাথির মোহাম্মদের ক্ষমতায় থাকা কালে একবার মালয়েশিয়ায় ইকোনমিক ক্রাইসিস দেখা দিল, ১৯৯৯ সাল হবে। তো আনোয়ার ইব্রাহিম সহ সকল অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড থেকে পি এইচডি করা লোকজন মাহাথির কে বুদ্ধি দিলো হেন করতে হবে, তেন করতে হবে। মাহাথির বললো, ” কিচ্ছু করা লাগবেনা, ডলার রেটটা আসলে চেঞ্জ করতে হবে, তোমরা ইকোনমি’র কি বুঝ!!” মাহাথির ডলার রেটটা ফিক্স করে চেঞ্জ করে দিলো, মুহূর্তের মধ্যে মালয়েশিয়ার ইকোনমিক ক্রাইসিস শেষ। এটা ছিল মাহাথির এক বিশাল পলিটিকাল উইন। দুনিয়ার ইতিহাস করলো মাহাথির, কারণ পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে প্র্যাকটিকাল নলেজ এই মাহাথির এর মাথায় আল্লাহ বেশী দিছেন।। যাই হোক, তো এর সমাধান কি?

USA,Economy,Geopolitics,Country Info,America,Democray,Latest,US Dollar

সমাধান হল, ইন্টারন্যাশল মুদ্রা হিসেবে আবারও গোল্ডকে (মানে গোল্ড, সিলভার এবং তামা) ব্যবহার করা। গোল্ড কারেন্সির ইচ্ছামতন প্রিন্ট করা যায় না। গোল্ডের ইকুইভ্যালেন্ট মানি ছাড়া যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক লেনদেন অবশ্যই গোল্ডের রেসপেক্টে হতে হবে, ডলার দিয়ে নয় ।

শুধু ডলার প্রিন্ট করে সারা দুনিয়ায় তা ছড়ানোর ব্যবস্থাটা আছে বলেই আমেরিকা এখনও টিকে আছে। না হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতন আমেরিকার ও পতন এদ্দিনে হয়ে যেতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্ভাগ্য, যে তাদের রুবল সারা দুনিয়ার কমন মুদ্রা না। ইরাকে আর আফগানিস্তানে তো কত ট্রিলিয়ন খরচ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই, সারা দুনিয়ায় আমেরিকার ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ, তাও কোন সমস্যা নেই, কারণ আমেরিকা শুধু ডলার প্রিন্ট করে, প্রিন্ট করে ঋণ শোধ করে, আর যেই ইনফ্লেইশনটা হয়, তা সারা দুনিয়া একসাথে বহন করে, তাই আমেরিকার গায়ে লাগেনা। এটা মনে রাখবেন, আপনি, আমি সবাই ইনডিরেক্টলি ইরাক, আফগানিস্তান, ইসরাইল সব জায়গায় যুদ্ধের খরচ আমেরিকাকে যুগিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমরা ডলার ব্যবহার করছি। যতদিন গোল্ড ফিরে না আসে, ততদিন এই ব্যবস্থাই চলবে।

২. স্বর্ণ মুদ্রা ব্যাবহার নিষিদ্ধ করা, সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি চালু রাখা এবং সকল ধনী-গরীব ও উন্নয়নশীল দেশের রিজার্ভের ডলার সমূহ আমেরিকার “ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক”-এ জমা রাখাঃ

বাংলাদেশ, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালোসিয়া, তুরস্ক, কাজাখস্থান, উজবেকিস্থান, ইরাক, ভারত, আরব আমিরাত, মিসর সব উন্নয়নশীল দেশের ও গরীব দেশের যেমন আফঘানিস্তান, নেপাল, সুদান, মালি, সোমালিয়া, কেনিয়া, চাঁদ, নাইজার, নামিবিয়া এই সমস্থ দেশসমুহের রিজার্ভ ডলার যা রপ্তানির মাধ্যমে আয় করে থাকে এই সকল দেশসমূহ। এই সব আয় করা ডলার এই দেশ গোলা আবার জমা করে রাখে “আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে”। ইহুদী মালিকানার “আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকটি” এই জমা করা ডলার গোলা দিয়ে কি করে জানেন ?? এই জমা করা ডলার সমূহ দিয়ে তারা পৃথিবী ব্যাপী সুধের বেবসা করে থাকে।

আমাদের জমা করা এই ডলার গোলা “আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক” সুদের মাধ্যমে আবার সুইস ব্যাংক, এশিয়ান ব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সমূহকে বেবসা করার জন্য ঋণ হিসেবে দিয়ে থাকে। এর পর যে সকল দেশসমূহ “আমেরিকান ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে” ডলার জমা করে রাখত, ঐ দেশ সমূহই আবার বেয়াকুফের মত ঐ এশিয়ান ব্যাংক, সুইস ব্যাংক, আই এম এফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এই সমস্থ ব্যাংকের কাছ থেকে সুদের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে। মানে ঘুরে ফিরে নিজের জমা করা ডলার নিজেই আবার সুদের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে।

উদাহরনঃ

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১২২ কোটি ডলার মানে (৯৬৮০ কোটি টাকা) লোণ নেয়ার জন্য চাইছিল। অপরদিকে একই সময় বাংলাদেশের ২৭০০ কোটি ডলার (২১৬০০০ কোটি টাকা) আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংকে রিজার্ভ হিসাবে জমা ছিল। অথচ আমরা ঋণ ভিক্ষা করি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আই এম এফ, এশিয়ান ব্যাংকের কাছ থেকে। আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আই এম এফ, সুইস ব্যাংক ও এশিয়ান ব্যাংকের বাপেরও এত টাকা নাই যে আমাদের ঋণ দিবে। ওরা ঐ ইহুদী মালিকানার “আমেরিকান ফেডারেল ব্যাংকের” কাছ থেকে অল্প হারে (%%) সুধ নিয়ে থাকে এবং এই ডলার গোলই আবার আমাদের ঋণ দেয়া হয়। মানে এই ব্যাংক সমূহ “আমেরিকান ফেডারেল ব্যাংক” থেকে ডলার নিয়ে নানা কৌশলে আমাদের জমানো টাকা থেকে আমাদেরকেই ঋণ দিয়ে থাকে।

আর এই ব্যাংক সমূহের প্রায় সবগোলার প্রধান অফিস হচ্ছে আমেরিকায়, এবং তাদের সকল করমচারই আমেরিকার নাগরিক। তারা আমাদের সাথে সুধের বেবসা করে যা লাভ করে তার সম্পূর্ণই চলে যায় আমেরিকায় ও আমেরিকার নাগরিকদের হাতে। এবং সরকারও পায় অনেক বড় অংকের আয়কর ট্যাক্স। আর এই ব্যাংক সমূহের বাৎসরিক ট্যাক্সের পরিমাণও অনেক বড়।

৩. আমেরিকা ও সৌদি আরবের শুধুমাত্র ডলার এর বিনিময়ে তেল বিক্রির চুক্তিঃ


১৯৭৩ সাল!!!! মুসলিমদের ইতিহাসের এক কালো দিন। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও হেনরি কিসিঞ্জার এর চালাকি বুঝতে না পেরে কিং ফয়সাল আমেরিকার সাথে পেটরু ডলার চুক্তি করেন। মানে আরবের তেল বিক্রি হবে শুধু মাত্র ডলার এর বিনিময়ে। এই চুক্তির কারনেই আমেরিকা আজকের সুপার পাওয়ার। দুনিয়ার সব দেশ তেল কিনতে হলে আমেরিকার কাছ থেকে ডলার নিতে হবে। আর আমেরিকা শুধু ডলার ছাপাবে ধনী হবে। ফয়সাল যখন বুঝতে পারে এইটা আমেরিকার চালাকি, তখন তাকে খুন করে ফেলা হয়। আর ইরাক ও ইরান একমাত্র দেশ যারা আমেরিকার এই পাতা ফাঁদে পা দে নাই। সাদ্দামকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি শুধু ইরান, যদিও ওরা শিয়া তারপরেও ওরা আমেরিকার ঐ দোকা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছে। আমেরিকার ও ইসরায়েলের কাছে শিয়া ও সুন্নি সবই এক।

মানে কেউ তেল কিনতে চাইলে আগে তাকে আমেরিকার কাছ থেকে ডলার কিনতে হবে। মানে আমরা ডলার ছারা তেল কিনতে পারব না। আর ডলার এর জন্য সবাই আমেরিকার গোলামী করতে হবে। হয়ত তারাও শয়তানের পক্ষে, নয়ত আরব নেতারা মাথা মোটা।

আগামী পর্বে যা লিখা হবে  (Click here ২য় পর্ব)

* ডলার এর বিপরীতে টাকার মান কীভাবে বাড়ে-কমে।
* পণ্যের দাম কি সত্যিই বাড়ে নাকি টাকার মূল্য চুরি করা হয়।
* কাগজের মুদ্রা হচ্ছে জনগণের সম্পদ চুরি করার একটা সর্বশ্রেষ্ঠ পলিসি।
* আমেরিকান ডলার এর পতন হলে বাংলাদেশী টাকার আর কোন মূল্যও থাকবে না।

0 Comments